প্রয়োজনীয় কর্মী ঘাটতি জাপানের অর্থনীতিতে বড় সংকট হিসেবে দেখা দিয়েছে। এর মধ্যে কভিড-১৯ মহামারী-পরবর্তী অবস্থায় বিবেচনায় নিলে দেশটিতে পূর্ণকালীন কর্মীর ঘাটতি সর্বোচ্চ পর্যায়ে পৌঁছেছে। খবর জাপান টুডে।
দেশটির বেসরকারি খাতের প্রতিষ্ঠানের ওপর পরিচালিত টাইকোকু ডাটাব্যাংক লিমিটেডের এক জরিপ থেকে এ তথ্য জানা যাচ্ছে। সেখানে জাপানের প্রতিষ্ঠানগুলোয় ৫০ শতাংশেরও বেশি বলছে, তাদের কর্মী সংকট রয়েছে।
জানুয়ারিতে পরিচালিত এ জরিপে প্রায় ১১ হাজার কোম্পানি অংশ নেয়। যেখানে ৫৩ দশমিক ৪ শতাংশ বলেছে, তাদের আরো পূর্ণকালীন কর্মী প্রয়োজন। পূর্ণকালীন কর্মীর সংকটে থাকা কোম্পানির সংখ্যা ২০২০ সালের এপ্রিলের পর সবচেয়ে বেশি ছিল জানুয়ারিতে, যা কিনা ২০১৮ সালের নভেম্বরের রেকর্ড ৫৩ দশমিক ৯ শতাংশের কাছাকাছি।
প্রতিবেদন অনুসারে, সবচেয়ে বেশি কর্মীর অভাব অনুভূত হচ্ছে তথ্য পরিষেবা খাতে। বিশেষত সিস্টেম ইঞ্জিনিয়ার পেশায় কম কর্মী মিলছে। এরপর রয়েছে নির্মাণ খাত।
জরিপে অংশ নেয়া ৩০ দশমিক ৬ শতাংশ প্রতিষ্ঠান বলছে, তারা খণ্ডকালীন কর্মীর অভাবে ভুগছে। এ তালিকায় শীর্ষে রয়েছে নিয়োগদাতা সংস্থাগুলো। এরপর রয়েছে রেস্তোরাঁ খাত।
২০২৪ সালে জাপানি কোম্পানিগুলো বড় আকারে মজুরি বাড়িয়েছিল। চলতি বছর সে প্রবণতা অব্যাহত থাকবে কিনা এখন সেদিকে নজর অর্থনীতিবিদদের। চলতি মাসের শেষ দিকে শ্রমিক ইউনিয়নের কাছ থেকে আসা মজুরি বাড়ার দাবির ওপর কোম্পানিগুলোর প্রতিক্রিয়া জানা যাবে। এসব আলোচনার মধ্যেই কর্মী সংকটসংক্রান্ত জরিপের ফলাফল প্রকাশ হলো।
পূর্ণকালীন কর্মী সংকটে ভোগা ৬৮ দশমিক ১ শতাংশ প্রতিষ্ঠান জানিয়েছে, ২০২৫ অর্থবছরে পূর্ণকালীন কর্মীদের মজুরি বাড়ানোর পরিকল্পনা করছে তারা। এর মাধ্যমে প্রয়োজনীয় কর্মীদের আকর্ষণ ও ধরে রাখতে চায় প্রতিষ্ঠানগুলো।
তবে অর্থনীতিবিদরা সতর্ক করে বলেছেন, ছোট ও মাঝারি আকারের কোম্পানিগুলো বড় প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে মজুরি বাড়াতে তাল মিলিয়ে চলতে সংগ্রাম করবে। কারণ বড় কোম্পানিগুলোর কাছে বাড়তি খরচের মতো অর্থ রয়েছে।
গবেষণা সংস্থা টাইকোকু ডাটাব্যাংক বলছে, বর্তমান পরিস্থিতিতে জাপানকে সতর্ক থাকতে হবে। কারণ কর্মী সংকটের কারণে অনেক কোম্পানি দেউলিয়াত্বের সম্মুখীন হতে পারে। আরো উল্লেখ করেছে, দেশটিতে ২০২৪ সালে দেউলিয়া কোম্পানির সংখ্যা রেকর্ড উচ্চতায় পৌঁছে।